Posts

গ্রীক অভিজ্ঞতাবাদ: সৎগুন (Virtue), প্রাজ্ঞতা ( Wisdom), নৈতিকতার (Morality) সীমাবদ্ধতা

Image
এরিস্টটল এর প্রাজ্ঞতা  Aristotelian Ethics এর Nicomachian Ethic পর্বে  সবিস্তারে বিধৃত রয়েছে । এই Ethics  এ অন্যান্য মানবগুনগুলি তথা প্রাজ্ঞতা ও বুদ্ধিদীপ্ত সৎগুনাবলি ভিন্ন ভাবে পরিবেশিত হয়েছে। সৎগুন তথা virtue শব্দটি মূলত এসেছে গ্রীক শব্দ Arête থেকে যাতে বলা হয়েছে  একজনের সিদ্ধি হাসিলের জন্য সে যে কর্ম করে তাই Arête । যেকোন বিষয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করাই হচ্ছে মূলমন্ত্র । আর এটিই হলো “নৈতিক সৎগুন” ( Moral virtue)। গ্রীসে  এই Arete সম্পর্কে প্রাথমিক  পর্যায়ের ধারনা ছিল যে মানব উদ্দেশ্যর সিদ্ধি বা কর্মের সিদ্ধি তথা নিজের সম্পূর্ন সন্ভাবনার ব্যবহারই সৎগুন। এরিস্টটল এটাকে বলছেন “ গভীর চিন্তাশীলতা” ( Contemplation) অর্থাৎ মানুষের সর্ব্বোচ্চ সক্ষমতা এবং সুখ। এইরুপ চিন্তার ধারাটির উৎস এরিস্টটল , তার Allegory of the Cave দ্বারা বোঝাতে চেয়েছেন মানুষের জ্ঞান ও অজ্ঞতার দিকগুলি। যে খানে মূলত সম্ভ্রান্ত শ্রেনীকে জ্ঞানের আধার তথা arête অর্জনক্ষম হিসাবে তিনি  ধারনা দিয়েছেন। তিনি Arête  অর্থে সম্পূন ভাবে মানব জ্ঞানকে বুঝিয়েছেন যেখানে   তিনি...

কোরান ও বর্তমান বিজ্ঞানের আলোকে ১দিনের হিসাব সেই আলোকে ৬ দিনের (স্তর) অর্থ।প্রথম পর্ব

Image
কোরআনের আলোকে বিশ্ব সৃষ্টির হিসাব  “আপনার পালনকর্তা আল্লাহ, যিনি ছয় দিনে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং তারপর তিনি সিংহাসনে বসেছেন ... (কোরান, ৭:৫৪)” ……….. কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানের মধ্যে সাদৃশ্যের একটি উদাহরণ হচ্ছে মহাবিশ্বের যুগ। কসম্মোলজিস্টরা মহাবিশ্বের বয়স ১৬-১৭ বিলিয়ন বছর বলে অনুমান করে। কুরআন বলছে যে সমগ্র মহাবিশ্ব ছয় দিনে তৈরি করা হয়েছে। অন্য কথায়, কুরআনের বলছে ছয় দিনের মধ্যে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা হয়েছিল, এবং আজ অবধি  যে সময় সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করা হয়েছে সেই গননানুযায়ী  তথা-১৭ বিলিয়ন বছর এর মাঝে কোন দ্বন্দ দেখা যায় না। …………. ১৯১৫ সালে আইনস্টাইন প্রস্তাব করেছিলেন যে, সময় প্রকৃতপক্ষে আপেক্ষিক ,সময় মূলত স্থান অনুযায়ী ও কোন কিছুর ভ্রমণের গতি এবং সেই মুহূর্তে  তার উপর মাধ্যাকর্ষণের শক্তির প্রভাবের উপর নির্ভর করে। সময়কালের এই পার্থক্যগুলির উপর নির্ভর করে বলা যায়  কোরআনের সাতটি ভিন্ন আয়াতে   মহাবিশ্বের সময়কালের যে বর্ননা করেছে তা  বিজ্ঞানীদের অনুমানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। …………  কুরআনে উল্লিখিত ছ...

দর্শন, বিজ্ঞান ও ধর্ম (দ্বিত্বীয় পর্ব)

Image
“ যুক্তিবিদ্যা (reasoning) হচ্ছে বর্তমান জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রধান মাধ্যম। যুক্তিবাদের কষ্টি পাথরে যাচাই করা ব্যতিরেক কোন কিছুকে মেনে নেওয়াকে মূর্খতা, পশ্চাদপদতা হিসাবে ধরা হয় যেখানে আবেগের কোন স্হান থাকতে পারবেনা। মোদ্দা কথা আবেগ, ভালবাসা, বিশ্বাস বর্জন করে বুদ্ধি নির্ভর হতে হবে। ……….. যুক্তিবাদ (লাতিন ভাষা ratio তথা " কারণ " বিশ্লেষন ) একটি দার্শনিক গতির অনুমানের উপর ভিত্তি করে যা, মানবিক যুক্তির সমস্ত জ্ঞানের মূলনীতির উৎ‍স। জ্ঞানতত্ত্বে এবং আধুনিক অর্থে যুক্তিবাদকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়ঃ ১/ একটি দৃষ্টিভঙ্গী যা যুক্তিকে জ্ঞানের উৎস ও সত্য প্রতিপাদনের একমাত্র মাধ্যম মনে করে। ২/একটি তত্ত্ব যেখানে সত্যের মানদন্ড ঐন্দ্রিক নয়, বরং বৌদ্ধিক( Intellectual) এবং অবরোহী  (Deductive)। “ ============= এখন চলেন জানা যাক এই আধুনিক মুক্ত চিন্তা কতো টা মুক্ত তা ছোটাকারে বিশ্লেষন করার চেষ্টা করি। বিজ্ঞান ও মুক্তচিন্তা। আইন্সাটাইনের  Special theory of relativity যা অদ্যাবধি একমাত্র সুপ্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার যার মাধ্যমে বলা হয় আলো হচ্ছে সর্বচ্চো গতিসন্পন্ন parti...

দর্শন, বিজ্ঞান ও ধর্ম (প্রথম পর্ব)

Image
 প্রকৃত পক্ষে  ইসলাম কে ধর্ম না বলে দ্বীন বলা যুক্তি সংগত কারন ধর্ম বা religion দ্বারা যা বোঝানো হয় কোরানীয় দ্বীন তা থেকে ভিন্ন।আমাদের ব্যবহ্নত প্রতিটি শব্দের  একটা  প্রচলিত আক্ষরিক অর্থ হয় যাকে denotation বলে কিন্ত ঐ শব্দের একটি জন্মগত ঐতিহাসিক ( connotation ) অর্থ আছে। ……. যেমন ধরা যাক। মীরজাফর সিরাজউদ্দৌলার সাথে বেইমানি করেছিল। এই খানে মীরজাফরকে একজন ব্যাক্তি হিসাবে প্রকাশ করাহচ্ছে।  এটা denotation। কিন্তু যদি বলা হয়,  ‘ আপনি একটা মীরজাফর সেক্ষেত্রে মীরজাফর শব্দটি  হয়ে পরে বহুমাত্তিৃক। এটা connotation । আবার প্রতিটি শব্দের জ্ঞানতাত্বিক একটা বিষয় আছে যাকে বলে etymological significance। অর্থাৎ শব্দটি কোন পরিবেশ, পরিস্হিতিতে চালু হয়ে ছিল সেই অবস্থানের নিরিখে শব্দটির একটা  জন্মগত অর্থ ভাব বহন করে । যেমন রাজাকার। রাজাকার শব্দটির  আক্ষরিক অর্থ সাহায্যকারী কিন্ত এর ভাবার্থ সম্পূর্ন ভিন্ন। ………… আমি এই সুযোগে আরো কিছু কথা বলতে চাই। আমাদের দেশে বেশ কিছু একেবারে হিন্দু ধর্মীয় শব্দ কে প্রবেশ করানো হয়েছে। মঙ্গল শোভা যাত্রা, আল্পনা,...

ঈদ-উল-আযহার গুরুত্ব

Image
 ইসলামে ঈদ-উল-আযহা মূলত সাঈদনা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ত্যাগ থেকে শুরু হয়েছে। ঈদ-উল-আযহার গূঢ়ার্ধ ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আল্লাহর নিকট তাঁর আত্মসর্মপন , তদানুযায়ী আল্লাহর আদেশের প্রতিনিজেকে সোর্পদ করা তথা আল্লাহর নির্দেশিকার প্রতি অবিচলতার প্রতি নিহিত। এই আল্লাহতায়াল নৈকট্য লাভের দৃষ্টান্তের মাঝেই ইসলামের মূল নির্যাস নিহিত। ঈদ-উল-আযার প্রকৃতার্থতা। ঈদ-উল-আযহা এর message টি বুঝতে হলে মুসলমানদের অবশ্যই সাঈদনা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আধ্যাত্মিক নিষ্ঠা কে অনুধাবন করতে হবে অন্তর দিয়ে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে খলিল হিসাবে গ্রহন করেছেন যার অর্থ 'আল্লাহর বন্ধু'। আল কোরানের সূরা আন-নাস এর ১২৫ নং আয়াতটি পর্যালোচনা করলেই ঈদুল আযহার সূর ব্যান্জনা অনুভব করা সহজ হয়ে যাবে। আসুন আমরা পড়ি এবং আয়াতটি বুঝতে চেষ্টা করি। " যে আল্লাহর নির্দেশের সামনে মস্তক অবনত করে সৎকাজে নিয়োজিত থাকে এবং ইব্রাহীমের ধর্ম অনুসরণ করে, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন, তার চাইতে উত্তম ধর্ম কার? আল্লাহ ইব্রাহীমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন। (৪:১২৫)। এই আয়াতটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আমাদেরকে অনুধাবন করতে হবে যার ব্যাপকত...

Hinduism , Buddhaism equal to mysticism

Image
The Mystics I like to elaborate my note by adding another segment. I shall include Sanatana dharma (Hinduism) and Buddhism. I am unable to anchor at any solid platform of these two schools of thoughts. To me Sanatana dharma chiefly stands on mythologies and Buddhism is more a meditative practice than any social system. Though in Sanatana dharma there is a concrete foundation of God but in Buddhism it is confusing.The nontheistic nature of this religion is esoteric. Though Sanatana is almost an esoteric mystery. These two main branches of thoughts had given birth of many other esoteric thoughts and in short I like to call them Mysticism. This is interesting to see that even some section from Muslim society were influenced by Mysticism and I think Aryans were migrated in present day India who brought another type of mysticisms from the Mesopotamia including from Persia. I am more convinced to think that the root of mysticism is idolatry or paganism took its shapes and sizes among t...

বিশ্ব ব্যবস্থায় নাস্তিক্যবাদের ভয়াল রূপ

Image
নাস্তিকতার সমালোচনা হচ্ছে, নাস্তিকতা চিন্তার সমালোচনা , এর বৈধতা বা নাস্তিকতার প্রভাবসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সমালোচনা। সমালোচনার মধ্যে আরও আছে বিজ্ঞান ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে নাস্তিকতার অবস্থান, প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সমীক্ষা , আস্তিত্ববাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তির পর্যালেচনা, নীতিশাস্ত্র এবং নৈতিকতা সংক্রান্ত আর্গুমেন্ট, ব্যক্তি উপর নাস্তিকতার প্রভাব, বা নাস্তিকতার সমর্থনে অনুমানের পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন সমসাময়িক agnostic যেমন, Carl Sagan ( Conversations with Carl Sagan (Literary Conversations) Paperback – January 5, 2006) এবং আস্তিক, Dinesh D'Souza (Atheism Masquerading As Science) নাস্তিকতার অবৈজ্ঞানিক অবস্হান কে লক্ষ্য করে সমালোচনা করেছেন। বিশ্লেষণধর্মী দার্শনিক ( Analytic philosopher) Alvin Plantinga,, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্রে অধ্যাপক , যুক্তি দেন যে আস্তিক্যবাদের আধ্যাত্মিক আর্গুমেন্টের ব্যর্থতার জন্য সংশয়বাদের (Agnosticism) জন্ম দিতে পারে, কিন্তু এই ব্যার্থতার কারনে নাস্তিকতার জন্ম নেওয়ার কোন যৌক্তিক কারন দেখা যায় না ; এবং...